মধ্যরাতে হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, দেখলেন বইয়ের মান

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের অগ্রগতি ও গুণগত মান সরেজমিনে যাচাই করতে মধ্যরাতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি ছাপাখানাগুলো পরিদর্শনে যান। রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রী ছাপাখানাগুলোতে প্রস্তুত করা পাঠ্যবইয়ের কাগজ, ছাপার মান ও বাঁধাই সরাসরি পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি বইয়ের বান্ডিল থেকে নমুনা কপি সংগ্রহ করে সেগুলোর সার্বিক গুণমান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেন। এ সময় সংশ্লিষ্টদের মানসম্মত বই মুদ্রণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তিনি।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (টেক্সট) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’-এ শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে চায় এনসিটিবি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৩০ কোটি ৯২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৯ কপি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিশাল প্রকাশনা কার্যক্রমে সরকারের মোট ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩২৮ টাকা।
মুদ্রণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপানো হবে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৪০০ কপি বই।
আর মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য প্রায় ১৮ কোটি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে কেবল নবম শ্রেণির জন্যই নির্ধারিত রয়েছে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ২৩৫ কপি বই। এ ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ৯ হাজার ৪ কপি ব্রেইল পদ্ধতির বই প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আসন্ন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচিতে কিছু নতুন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘আমাদের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘আনন্দময় শিক্ষা’ ও ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ের নতুন বই ছাপানো হচ্ছে। এসব নতুন এবং পরিমার্জিত ও সংশোধিত বই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এনসিটিবি।








