অবশেষে দশম গ্রেডের বেতন পাচ্ছেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া অবশেষে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও নানা জটিলতায় এতদিন সেই অনুযায়ী বেতন পাচ্ছিলেন না তারা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। এতে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা।
আদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে সংযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দশম গ্রেড অনুযায়ী গত ডিসেম্বর থেকে বকেয়া পাওনা নিয়েও আদেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা পাবেন না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
আদালতের রায়ের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। নতুন বেতন স্কেলে দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হবে ৩২ হাজার টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে দশম গ্রেডে মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত। দশম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ১১তম ও ১২তম গ্রেডে বেতন পেতেন। পুরোনো পে স্কেলে এ দুই গ্রেডে মূল বেতন শুরু হতো যথাক্রমে ১২ হাজার ৫০০ ও ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে।
নতুন পে স্কেলে ১১তম গ্রেডের বেতন ২৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডের বেতন ২৪ হাজার ৩০০ থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাব এখনো ঝুলে আছে
বিজ্ঞাপন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। নতুন পে স্কেলে এ গ্রেডে তাদের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা থেকে শুরু।

সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি কমিশনের কার্যপরিধির মধ্যেও পড়ে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে সহকারী শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ বাড়িয়ে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার আরেকটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বর্ধিত গ্রেডে বেতন দিতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।
দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজারের কিছু বেশি, আর বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষক।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া সম্প্রতি প্রায় ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের আগামী ১১ অক্টোবর পদায়ন করা হবে।








