এসএসসি-এইচএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম করলেই কারাবাস

এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় অবৈধ পরিবর্তন এবং ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুমোদন করা হয়। এতে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনকে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে পরীক্ষকের ইচ্ছাকৃত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নম্বর বেশি বা কম দেওয়ার অভিযোগগুলো যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত শেষে ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানোর প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খাতা মূল্যায়নে সাধারণ ভুল, অসাবধানতা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানোর ঘটনাকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এ কারণে ‘অনুচিত নম্বরের’ সীমা নির্ধারণ করে খাতা মূল্যায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বরের অসংগতি ধরা পড়ে। গত ১০ আগস্ট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৭৭ জন।
ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সময়ে ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ শিক্ষার্থী আবেদন করে। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করায় মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪ হাজার ৫৪৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে নতুন করে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৬ জন। এছাড়া ২৭ হাজার ৬৩৬ শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫৬ হাজার ২৫১টি উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি খাতা মূল্যায়নের মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ কারণে সাধারণ ভুল ও ইচ্ছাকৃত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করে খাতা মূল্যায়নে আরও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।’








