স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে যা বললেন সালমান মুক্তাদির

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় নিজের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির। আট মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি মামলা, নাগরিক নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে উল্লেখ করায় এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে কথা বলায় ধন্যবাদ জানিয়ে সালমান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। নিজের স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেন বলেও জানান তিনি।
সালমানের দাবি, ঘটনার পর তিনি রাতেই ক্যান্টনমেন্ট থানায় গিয়ে মামলা করতে চেয়েছিলেন এবং ভোর পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। কিন্তু তখন মামলা নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মামলা করা হয়নি’ মন্তব্য করায় এর জবাব দিতে গিয়ে সালমান বলেন, মামলা না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব তার নয়, বরং প্রশাসনের।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী বা জমি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব তদন্তের বিষয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সরকারের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ বা স্টুডিও পুনর্নির্মাণের সহায়তা চান না; বরং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চান।
বিজ্ঞাপন
সালমান তার বক্তব্যে বিএনপির নামও উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতাসীন সরকারের সময় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটলে এর দায় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জবাবদিহি কার। তবে হামলার সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততার বিষয়টি সালমানের বক্তব্যে অভিযোগ হিসেবে এসেছে; এ বিষয়ে তদন্তের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সালমানের বক্তব্যকে ‘বিতর্ক’ উসকে দেওয়ার মতো বলে মন্তব্য করেন এবং তিনি মামলা করেছেন কি না, সে প্রশ্ন তোলেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ইসিবি চত্বরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সালমান তার ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি আইনগতভাবে তার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন পক্ষ ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করছে এবং তিনি নিজে এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে চান না।








