ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার সংস্থাটি হতাহতের এই তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।\
আরও পড়ুন: বিক্ষোভের উসকানিদাতাদের ছাড় নয় : ইরান
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। টানা প্রায় ১৮ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনাকে অনেকেই অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
নেটব্লকস জানায়, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি ও হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। সংস্থাটির হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রথম সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। সরকারের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা সহিংসতায় জড়িত দাঙ্গাকারীদের হাতে নিহত সাধারণ মানুষ।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, ইরানের বাইরে থেকে সম্প্রচারিত ফার্সি ভাষার চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ৮–৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক বিরোধী গোষ্ঠী পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জানান, তা এখনো একটি বিকল্প। তিনি ওই অঞ্চলে একটি বড় নৌবহর পাঠানোর কথাও বলেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো আগ্রাসনের ক্ষেত্রে “দাঁতভাঙা জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে বিক্ষোভ সমাবেশে বজ্রপাত, আহত ৮৯
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে আরও বেশি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








