Logo

একা হয়ে পড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না দুই মিত্র

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ মার্চ, ২০২৬, ১৭:০৯
একা হয়ে পড়ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না দুই মিত্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দুই সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে মিত্রদের সহায়তা চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি জাপান ও ফ্রান্স।

শনিবার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেন, ইরানের অবরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখার উদ্যোগে অংশ নেবে। তিনি আশা করেছিলেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য এই উদ্যোগে যোগ দেবে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু জাপান ও ফ্রান্সের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এতে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই একা হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি দেশটির গণমাধ্যম এনএইচকে-কে জানান, সাংবিধানিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে ওই অঞ্চলে জাপানের নৌবাহিনী পাঠানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, সামরিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে টোকিও সতর্ক ও রক্ষণশীল কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সরাসরি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় সার উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে, যা বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন মিত্রদের সমর্থন পেতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন ইরান তাদের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে সীমিত নৌচলাচল বজায় রাখার কথা বলেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই পথ কেবল শত্রু দেশ ও তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের জাহাজ চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD