ইরানের অদৃশ্য ক্ষমতার কারিগর: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু তেহরানের শাসনব্যবস্থায় বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তার মৃত্যুর পর দেশের নেতৃত্ব কে ধরবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। এই দৌড়ে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নাম হিসেবে উঠে এসেছে তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি।
বিজ্ঞাপন
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী কট্টরপন্থী মোজতবা আগামী ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ‘সুপ্রিম লিডার’ বা সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন।
গত শনিবার তেহরানে খামেনির বাসভবনে চালানো হামলায় মোজতবার মা, স্ত্রী ও এক বোন নিহত হন। মোজতবা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় বেঁচে যান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার টিকে থাকা এবং সম্ভাব্য ক্ষমতায় আগমন ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের নতুন মোড় নির্দেশ করছে।
বিজ্ঞাপন
ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক প্রভাব:
মোজতবা কখনও সরাসরি নির্বাচনে লড়েননি বা জনমতের মুখোমুখি হননি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর।
তিনি আইআরজিসির হাবিব ব্যাটালিয়নে ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। অনেক সহযোদ্ধা বর্তমানে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এছাড়াও মোজতবা একটি বিশাল অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও পরিচালনা করছেন, যা কোটি কোটি ডলারের লেনদেনে যুক্ত।
বিজ্ঞাপন
মোজতবা সাধারণ জনগণের সামনে খুব কমই প্রকাশ পেয়েছেন। তিনি জনসভা বা ধর্মীয় ভাষণ দেন না। তার এই নিরবতা এতটাই রহস্যময় যে, অনেক ইরানি আজও তার কণ্ঠস্বর শোনেননি।
বিতর্ক ও রাজবংশগত শঙ্কা:
বিজ্ঞাপন
যদি খামেনির স্থলাভিষিক্ত তার ছেলে হন, তা ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন ‘ধর্মীয় রাজবংশ’ গঠনের বিতর্ক উস্কে দিতে পারে। বিশেষ করে দেশি-বিদেশি বিরোধীরা তার কঠোর বিক্ষোভ দমন নীতিকে সমালোচনা করেছেন। ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টসহ সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বিক্ষোভ দমনেও তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি:
বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তারা হলেন— গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আলি রেজা আরাফি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেন মহসেনি-এজেই এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করবেন।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ও অ্যাসেম্বলি কার্যালয়েও বোমাবর্ষণ হওয়ায় এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা








