পরমাণু নেই বলছে ইরান, তবুও কেন ভয় পায় পশ্চিমারা?

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা, বিতর্ক ও নানা জল্পনা চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য বা সরাসরি প্রমাণ এখনো আইএইএর হাতে নেই।
বিজ্ঞাপন
গ্রোসি জানান, আইএইএর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো আলামত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হাতে এমন কোনো অকাট্য তথ্য নেই, যা প্রমাণ করে দেশটি বর্তমানে পারমাণবিক বোমা নির্মাণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তবে এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে তীব্র অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব স্থাপনায় লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে পশ্চিমা শক্তিগুলো।
বিজ্ঞাপন
যদিও গ্রোসি সরাসরি বোমা তৈরির প্রমাণ না থাকার কথা বলেছেন, তবুও তিনি ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইএইএর মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, ইরান ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে। সাধারণত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যে মাত্রার ইউরেনিয়াম প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ এখন দেশটিতে হচ্ছে। এই মাত্রা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া গ্রোসি অভিযোগ করেন, ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় আইএইএর পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গ ও অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য আরোপিত এই সীমাবদ্ধতা ও গোপনীয়তার কারণে বৈশ্বিক মহলে সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখনো বিশ্বের স্বীকৃত ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায় নেই এবং দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা দেয়নি। তবুও উন্নত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি, শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ইরানকে সম্ভাব্য পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মিত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব, পাশাপাশি তাদের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে পারমাণবিক বোমা আনুষ্ঠানিকভাবে না থাকলেও ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ ও সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।








