তেহরানে তীব্র হামলা, ইসরায়েল বললো যুদ্ধ ‘নতুন ধাপে’

ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার ভোরে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে এবং ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শুরু হওয়া এই সংঘাত সপ্তম দিনে প্রবেশ করেছে এবং এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার জানিয়েছে, তারা একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আসা ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে লেবানন জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী টে হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরান ও তেহরানের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ শিগগিরই আরও বিস্তৃতভাবে বাড়ানো হবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার ভোরে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, ঠিক তার আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল, তারা শহরের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক প্রধান সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ এখন পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে এবং তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
এই হামলার জবাবে ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী আইআরজিসি তেল আবিবের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে মধ্য ইসরায়েলের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এএফপি সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তেল আবিবে পরপর দুই দফা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং উত্তরের আকাশে রকেটের আলোর রেখা লক্ষ্য করেছেন।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে লেবাননেও। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর ইসরায়েল সেখানে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে অন্তত ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সতর্কবার্তার পর হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ অংশ প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিকের মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজধানী তেহরানে কিছু এলাকায় স্বাভাবিক জীবনের চিহ্ন দেখা গেলেও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। স্থানীয় এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, রাস্তায় টহল, ফোন পরীক্ষা ও অনেককে হয়রানি করার ঘটনা ঘটছে।
যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন সংঘাতের আশঙ্কা জোরদার হচ্ছে।








