প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে, আতঙ্কে ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
ওয়াশিংটনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বল্পপাল্লার হামলা প্রতিহত করতে ‘আয়রন ডোম’ ব্যবহৃত হলেও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে উচ্চমূল্যের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা যুক্ত করায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ছোট ছোট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে একাধিক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হওয়ায় মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছর ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা শুরুর সময় থেকেই ইসরায়েল এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মুখে ছিল। চলমান সংঘাতে ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতেই ইসরায়েলের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় কম ইন্টারসেপ্টর ছিল। এখন ইরানের পক্ষ থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে সেই মজুত প্রায় শেষের দিকে পৌঁছেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এমন সংকট নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবুও ইসরায়েলের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: সেমাফোর








