ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও নেই নেতানিয়াহু, মৃত্যুর গুঞ্জন

ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। কোনো আগাম ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়া তার এই রহস্যজনক অনুপস্থিতি ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ১৬তম দিনে প্রধানমন্ত্রীর জনসমক্ষে না আসা বা গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে অংশ না নেওয়াকে বিশ্লেষকরা ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন।
ইরানি হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই সংকটময় মুহূর্তে ১৫ মার্চ ইসরায়েলে বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাবিনেট ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত এসব বৈঠক নিজেই পরিচালনা করেন নেতানিয়াহু, তবে রোববারের বৈঠকে তার আসন খালি ছিল।
বিজ্ঞাপন
জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিতি সবাইকে অবাক করেছে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও মন্ত্রীরা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো ব্যাখ্যা না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি কমান্ড সেন্টার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর থেকে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৈঠকটি পরিচালনা করেছেন। যুদ্ধকালীন এই সংকটময় সময়ে নেতার অনুপস্থিতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ভিডিও প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, তবে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছেন ভিডিওতে তার অঙ্গভঙ্গি অস্বাভাবিক, যা কৃত্রিম প্রযুক্তি (ডিপফেক) ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
গোপন সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধকালীন এই সংকটময় সময়ে নেতানিয়াহুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তার অবস্থান নিয়মিত পরিবর্তন করা হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের পরিকল্পিত ইসরায়েল সফর আকস্মিকভাবে বাতিল হওয়ায় গুজব আরও জোরালো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন:
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নেতানিয়াহু যদি এখনো বেঁচে থাকেন, তবে তাঁকে খুঁজে বের করে নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান থামবে না। আইআরজিসি বলেছে, “আমরা এই শিশুহত্যাকারীকে ধাওয়া অব্যাহত রাখব।”
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম আঘাতে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারকে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি নিহত হন ইরানের সেনাবাহিনীর কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।








