Logo

বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে তেলের দাম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মার্চ, ২০২৬, ১৬:০৮
বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে তেলের দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম সোমবারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সোমবার কিছুটা সংশোধন হলেও বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৬৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন পর্যন্ত ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে— এমন আশঙ্কাই তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি তৈরি করেছে।

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত। বর্তমানে দিনে পাঁচটির বেশি জাহাজ চলাচল করছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তা চেয়েছেন। তবে চীন, জাপান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ট্রাম্প ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেন, তার প্রস্তাবে সাড়া না মিললে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই কঠিন’ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD