অঙ্ক মিলছে না ইরান যুদ্ধের, নতুন কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতেও একের পর এক আঘাত হানছে তেহরান। শুরুতে যতটা সহজে ইরানকে দুর্বল করে দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া যাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা সহজ হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধে ইরানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপরও চাপ বাড়ছে। প্রতিদিন যুদ্ধ ব্যয় বাড়তে থাকায় দুই দেশের সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র স্বীকার করেছে, যুদ্ধ শুরুর সময় যে হিসাব করা হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেক পার্থক্য দেখা দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট মিরর।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের বিমান হামলা প্রত্যাশার চেয়েও কার্যকর ছিল। তবে সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুতে যেমন গতিতে এগোবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা হয়নি। ফলে যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
ইসরায়েলি সূত্রগুলোর মতে, অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। কিছু গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সাধারণ মানুষ বড় আকারে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য অপ্রত্যাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এসব প্রাথমিক হিসাব ভুল হলেও ইরানকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে নতুন পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছে সূত্রগুলো। তাদের আশা, ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপগুলো যুদ্ধের গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় দুই হাজার ২০০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংস্থার স্থাপনাও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রায় এক হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব হামলায় মূলত ওইসব দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এসব আক্রমণে হতাহতের পাশাপাশি কিছু বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও।
এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
বিজ্ঞাপন
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক অভিযান শুরু করে। এই দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
১৭ দিন ধরে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এখন তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাতের মুখে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: মিডল ইস্ট মিরর








