Logo

ইরান সংকটে চাপে ট্রাম্প, সহায়তায় সাড়া দিচ্ছে না মিত্ররা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মার্চ, ২০২৬, ২১:৫৯
ইরান সংকটে চাপে ট্রাম্প, সহায়তায় সাড়া দিচ্ছে না মিত্ররা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব পড়ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও।

বিজ্ঞাপন

ইরান শুধু ইসরায়েলেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, যা দুই দেশের সরকারের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ চলাচল করে থাকে।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি যুক্তরাজ্যে, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো’কেও সতর্ক করে তিনি বলেন, মিত্ররা যদি সহায়তায় এগিয়ে না আসে তাহলে জোটের ভবিষ্যৎই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে ট্রাম্পের এই আহ্বানে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং অনেক দেশ সংঘাতে সরাসরি জড়াতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তার দেশের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য কোনো বৃহৎ যুদ্ধের অংশ হতে চায় না এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার পক্ষে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যেই রয়েছে। কারণ, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ায় এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের সমালোচনা করেছিলেন। এমনকি তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের তুলনা টেনে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি সাবেক নেতা উইনস্টন চার্চিলের সম্পূর্ণ বিপরীত।

যদিও সাম্প্রতিক এক টেলিফোন আলাপে দুই নেতা হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবু সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ইউরোপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশও। ফ্রান্স সংঘাতটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে এতে সরাসরি জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একইভাবে জার্মানি জানিয়েছে, তারা সামরিকভাবে এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং হরমুজ প্রণালিকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে খোলা রাখার উদ্যোগেও যুক্ত হবে না।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া গ্রীসও ওই অঞ্চলে কোনো সামরিক তৎপরতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

শুধু ইউরোপ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় মিত্ররাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ দুই মিত্র জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, তারা বাণিজ্যিক জাহাজকে সামরিকভাবে পাহারা দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার করার কোনো পরিকল্পনা করছে না।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী আলোচনা হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলও নিজস্ব অভিযান শুরু করে। এই হামলার পর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে এবং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD