চাঁদ দেখার পরও ঈদ উদ্যাপন করছে না সংযুক্ত আরব আমিরাত

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বের কয়েকটি দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন শুরু হলেও ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। বুধবার (১৮ মার্চ) চাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরও দেশটি বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঈদ উদ্যাপন থেকে বিরত রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, আজ আফগানিস্তান, নাইজার ও মালিতে ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে গেছে। সেখানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রমজান মাসের সমাপ্তি ঘোষণা করে মুসলিমরা ঈদ উৎসব উদ্যাপন করছেন।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে শাওয়ালের চাঁদ দিনের আলোতেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আবুধাবির খতম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি থেকে বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে চাঁদের একটি স্পষ্ট ছবি ধারণ করা হয়। পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অধীনে পরিচালিত।
বিজ্ঞাপন
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবি ধারণের সময় সূর্য ও চাঁদের মধ্যবর্তী কৌণিক দূরত্ব ছিল প্রায় ৯.২ ডিগ্রি। একই সঙ্গে চাঁদের বয়স ছিল ঋণাত্মক ১৫ ঘণ্টা ২৩ মিনিট, যা চাঁদ দেখার বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেন আনাস মোহাম্মদ, ওসামা ঘান্নাম এবং খালফান আল নাইমি। চাঁদের ছবিটি ধারণ করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মোহাম্মদ আওদা, যা পরবর্তীতে বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন
তবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ঈদের তারিখ নির্ধারণে খালি চোখে চাঁদ দেখা বা গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে আমিরাত কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদ ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে এবং বৃহস্পতিবার ঈদ উদ্যাপন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য এক আনন্দঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর এই উৎসব আসে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে। তবে চাঁদ দেখার নিয়মে ভিন্নতা থাকায় বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে ঈদের সময় নির্ধারণে বৈচিত্র্য অব্যাহত রয়েছে।








