যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে আলোচনা চলছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবির পর পাল্টা অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার প্রশ্নই আসে না। ট্রাম্প মূলত সময়ক্ষেপণ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।
আরাগচি মন্তব্য করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে, তবে এ বিষয়ে মূল আলোচনার জায়গা হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, কারণ সংঘাতের সূচনা তাদের দিক থেকেই হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, গত দুই দিন ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প আরও বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে সাময়িকভাবে সামরিক পদক্ষেপ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে তিনি ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দেন, যেখানে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ওই সময়সীমা মানা না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে তিনি সেই আল্টিমেটাম থেকে সরে এসে নতুন করে আলোচনার অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, পাল্টা সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। ইরানের প্রতিরোধমূলক অবস্থানই পরিস্থিতির গতিপথ বদলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনেও ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা








