Logo

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে জাপানে টয়লেট পেপার কেনার ধুম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ মার্চ, ২০২৬, ১৭:৫১
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে জাপানে টয়লেট পেপার কেনার ধুম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে অস্থির পরিস্থিতির প্রভাবকে কেন্দ্র করে জাপানে দেখা দিয়েছে ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা। এ পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি টয়লেট পেপারও ব্যাপকভাবে মজুদ করতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় নাগরিকদের অযথা পণ্য মজুদ না করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এমন অতিরিক্ত কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে দেখা গেছে, টয়লেট পেপার, পোষা প্রাণীর খাবার ও পানীয়সহ নানা পণ্য মানুষ অতিরিক্ত পরিমাণে কিনে ঘরে মজুদ করছেন। কিছু দোকানে ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের তাক খালি হয়ে যাওয়ার চিত্রও দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতি আরও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে অনেকেই একইভাবে অতিরিক্ত কেনাকাটার দিকে ঝুঁকছেন।

একজন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, তাদের স্থানীয় দোকানে টয়লেট পেপার শেষ হয়ে গেছে, কারণ সবাই একসঙ্গে মজুদ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাপানের জন্য এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের সময়ও দেশটিতে টয়লেট পেপার মজুদের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের ভূমিকম্প-সুনামি এবং কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতেও। প্রতিবারই দেখা গেছে, প্রকৃত সংকটের চেয়ে মানুষের আতঙ্কই পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় জাপানে আবারও একই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেট পেপার সরবরাহে এমন উদ্বেগের বাস্তব ভিত্তি নেই। জাপানের প্রায় ৯৭ শতাংশ টয়লেট পেপার দেশেই উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশ পুনর্ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদনকারীরাও জানিয়েছেন, কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে এবং চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় মজুতই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। কিছু মানুষ অতিরিক্ত কেনাকাটা করলে দোকানে পণ্য দ্রুত শেষ হয়ে যায়, যা অন্যদের মধ্যে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে দুষ্টচক্রে পরিণত করে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD