Logo

যিশুখ্রিষ্ট রূপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, তীব্র সমালোচনা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:১৫
যিশুখ্রিষ্ট রূপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, তীব্র সমালোচনা
ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে যিশু খ্রিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই ছবি নিয়ে সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষ থেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে সোমবারের মধ্যে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।

বিজ্ঞাপন

ছবিটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ছবিটি তাকে চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং এটি রেড ক্রস সংশ্লিষ্ট হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন। তার ভাষায়, তিনি মানুষকে “সুস্থ করেন”—এ ধারণা থেকেই ছবিটি শেয়ার করা হয়েছিল।

তবে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি আলখাল্লা পরা অবস্থায় বিছানায় শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির কপালে হাত রাখছেন, আর তার হাত থেকে আলো ছড়াচ্ছে। খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিষ্ট অসুস্থদের সুস্থ করার অলৌকিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন—ফলে ছবিটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠন। ভারমন্টের ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ট্রাম্প একই সঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আক্রমণ করে নিজেকে “মসিহা” হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা “বিপজ্জনক ও আত্মকেন্দ্রিক আচরণ”।

ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান জিম ম্যাকগভর্ন বলেন, ছবিটি “ধর্ম অবমাননাকর ও গভীরভাবে অপমানজনক”। তিনি এটিকে “অসুস্থ মানসিকতার প্রকাশ” বলেও মন্তব্য করেন।

ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির পক্ষ থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও হাউস স্পিকার মাইক জনসনকে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

একই সময়ে রিপাবলিকান ও ট্রাম্পপন্থি শিবির থেকেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে। সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিন ও সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম কিনজিঙ্গার ছবিটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কিছু ট্রাম্পপন্থি মন্তব্যকারী ছবিটির পক্ষে অবস্থান নেন।

ক্যাথলিক সংগঠন নাইটস টেম্পলার ইন্টারন্যাশনাল একে “গভীরভাবে অপমানজনক” বলে অভিহিত করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। সংগঠনটি অতীতে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন পক্ষও। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, শান্তির প্রতীক যিশুকে এভাবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্টও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে।

অন্যদিকে ট্রাম্পপন্থি লরা লুমার ছবিটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ম অবমাননার কোনো আইন নেই।

ট্রাম্প বনাম পোপ বিতর্কের প্রেক্ষাপট

বিজ্ঞাপন

ছবিটি প্রকাশের আগে ট্রাম্প পোপ লিও চতুর্দশকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তিনি পোপের নীতি ও মন্তব্যকে “দুর্বল ও রাজনৈতিকভাবে ভুল” বলে উল্লেখ করেন।

এর আগে পোপ লিও ইরান যুদ্ধ, লেবানন সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ক্যাথলিক চার্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কার্ডিনাল রবার্ট ম্যাকএলরয় বলেন, খ্রিস্টানদের শুধু প্রার্থনায় সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কিছু মুসলিম ও খ্রিস্টান সংগঠন পোপ লিওর প্রতি সংহতি জানায় এবং ট্রাম্পের আচরণকে ধর্ম অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করে। অন্যদিকে কিছু ট্রাম্প সমর্থক বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

এদিকে পোপ লিও সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং শান্তির বার্তায় বিশ্বাসী।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD