পুতিনকে জেলেনস্কির খোলা চিঠি, সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক খোলা চিঠিতে তিনি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনা ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রস্তাবও দেন তিনি। যদিও এর আগেই পুতিন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই নেতার বৈঠককে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কির পাঠানো চিঠি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি পুতিনকে অবহিত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ চিঠিতে জেলেনস্কি রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে পুতিনের ওপর বয়স ও ক্লান্তির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে তিনি লেখেন, যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত ইউক্রেন। সুইজারল্যান্ড কিংবা তুরস্কের মতো নিরপেক্ষ কোনো দেশে এই বৈঠক আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। প্রতিবারের মতো এবারও মস্কো জানিয়েছে, চাইলে জেলেনস্কি রাশিয়া সফর করে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ বর্তমানে কিছুটা কমে গেছে এবং ওয়াশিংটনের দৃষ্টি আবার এ যুদ্ধে ফেরার অপেক্ষায় থাকা ভুল হবে।
অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী, তবে এর জন্য উভয় পক্ষকেই কিছু ছাড় দিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করতে হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রাশিয়ার অবস্থান অনুযায়ী, ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে। তবে কিয়েভ এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউক্রেনের দাবি, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে তা ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসনের পথ তৈরি করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। জেনেভা, আবু ধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আগের আলোচনাগুলোও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ইউক্রেন তাদের নাগরিকদের হারাচ্ছে এবং প্রতিটি মৃত্যু দেশের জন্য গভীর বেদনার।
তার দাবি, দীর্ঘ যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, ড্রোন হামলা ও মূল্যস্ফীতির কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে নেওয়ার।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিলহা এই উদ্যোগকে আন্তরিক ও অর্থবহ প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কিয়েভ একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশা করছে।
বিজ্ঞাপন
তবে সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন জেলেনস্কির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের আইনগত অবস্থান নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
এদিকে ট্রাম্প বলেন, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলে তা সংকট সমাধানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তার বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: বিবিসি








