ইরানের ইউরেনিয়াম চাইলেই দখল করতে পারি : ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহজেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমন পদক্ষেপকে তিনি অযৌক্তিক বলেও উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ জুন) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন কোনো বিষয় নয়। তার দাবি, ওয়াশিংটন চাইলে সেই মজুত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে এবং ইরানের পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না।
তবে তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন নেই এবং সেটি যুক্তিসঙ্গতও হবে না।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
এই ইউরেনিয়ামের মজুত কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান এ মজুত আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় বা ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করুক। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাতের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা তার নেই। তবে কোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এমন বৈঠক হলে তিনি তা ইতিবাচকভাবেই দেখবেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যদি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়, তাহলে খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকবে না।








