পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকেলে স্বপ্ন’ বলল উত্তর কোরিয়া

পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানকে ‘সেকেলে স্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা ও নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন হুমকির মুখে দেশটি বরং তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণ করবে।
বিজ্ঞাপন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের একদিন আগে এই বক্তব্য আসে। সোমবার শুরু হওয়া এই সফরকে গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনা প্রেসিডেন্টের পিয়ংইয়ং সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে কিম জং উনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কিম ইয়ো জং বলেন, পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মার্কিন প্রচেষ্টার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বক্তব্যের প্রতি কেউ দায়বদ্ধ নয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু মার্কিন কর্মকর্তা যে উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তা বাস্তবতা বিবর্জিত ও পুরোনো চিন্তার প্রতিফলন।
গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে বলে যে দাবি করা হয়েছিল, সেটিকে ‘ভুল তথ্য’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেন কিম ইয়ো জং।
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালে কিম জং উন ও যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং এখন নিজেদের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে আগ্রহী, যাতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যায়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উন সম্প্রতি একাধিক অস্ত্র কারখানা ও পারমাণবিক উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নীতি অঞ্চলজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। তার ভাষায়, উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামূলক পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত’ এবং তা বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শি জিন পিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে চীন আবারও উত্তর কোরিয়ার ওপর কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে সরাসরি চাপ না দিয়ে বেইজিং নরম কৌশল নিতে পারে বলে ধারণা তাদের।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা হিসেবে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে পশ্চিমা সূত্রের দাবি রয়েছে, যার বিনিময়ে মস্কো থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা পাচ্ছে পিয়ংইয়ং।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এপি








