ক্ষেপণাস্ত্র সবার থাকলে ইরানের কাছেও থাকাটা ঠিক আছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বের অন্য দেশগুলোর কাছে যদি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সক্ষমতা থাকা পুরোপুরি অন্যায় নয়। বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প বলেন, “অন্য দেশগুলোর কাছে যদি এগুলো থাকে, তাহলে ইরানকে একেবারে বঞ্চিত করা কিছুটা অন্যায্য মনে হয়। সৌদি আরব, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আছে—তাহলে ভারসাম্যের দিক থেকে ইরানের কাছেও কিছু থাকা স্বাভাবিক।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে হওয়া চুক্তির পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছু সময়ের জন্য মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে।
বিজ্ঞাপন
পারমাণবিক ইস্যুকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র সমস্যা হলেও পারমাণবিক অস্ত্রের মতো তা বৈশ্বিক ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে না। তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র পুরো পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ হুমকি।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার সময় তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তিনি জানান, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করেছেন।
ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পও। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটাল মাধ্যমে প্রথম স্বাক্ষর করেন, পরে তা চূড়ান্ত করেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট।
বিজ্ঞাপন
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-কে বলেন, সমঝোতা স্মারকের পাঠ্য এখন চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা








