আজ বছরের দীর্ঘতম দিন, রাত হবে সবচেয়ে ছোট

আজ (২১ জুন) উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোর জন্য বছরের দীর্ঘতম দিন। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের মানুষ আজ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সূর্যের আলো উপভোগ করবেন। একই সঙ্গে আজকের রাত হবে বছরের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রাত।
বিজ্ঞাপন
জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ ঘটনাকে গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বলা হয়। প্রতি বছর ২১ জুন পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থানগত কারণে এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ দিনের আলো প্রায় ১৩ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন: আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
উত্তর গোলার্ধে যখন বছরের সবচেয়ে বড় দিন দেখা যাচ্ছে, তখন দক্ষিণ গোলার্ধে ঘটছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। বিষুবরেখার দক্ষিণে থাকা দেশগুলোতে আজ বছরের দীর্ঘতম রাত ও সবচেয়ে ছোট দিন। তাদের জন্য এটি শীতকালীন অয়নান্তের সূচনাও বটে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘতম দিন কেন হয়?
স্মিথসোনিয়ান সায়েন্স এডুকেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে, পৃথিবী তার অক্ষের ওপর ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কোণে হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এই ঘূর্ণনের কারণে বছরের এই সময়ে পৃথিবীর উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যরশ্মি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে এবং দিন বড় হয়।
অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরে যখন শীতকালীন সলস্টিস ঘটবে, তখন উত্তর মেরু সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে হেলে থাকবে, ফলে তখন দিন হবে বছরের সবচেয়ে ছোট।
বিজ্ঞাপন
বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন
বছরের দীর্ঘতম দিনকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নানা উৎসব, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় আচার পালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের নিউগ্রাঞ্জ এবং যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জ এ উপলক্ষে সবচেয়ে পরিচিত স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বিজ্ঞাপন
প্রাগৈতিহাসিক স্থাপনা স্টোনহেঞ্জে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন সূর্যোদয়ের বিরল দৃশ্য দেখার জন্য। ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩১০০ থেকে ১৬০০ সালের মধ্যে নির্মিত এই পাথরের স্মৃতিস্তম্ভ সূর্যের উদয় ও অস্ত যাওয়ার অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
এবারও বছরের দীর্ঘতম দিনের সূচনা মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ স্টোনহেঞ্জে সমবেত হন। ভোরের প্রথম সূর্যরশ্মি যখন বিশাল পাথরের স্তম্ভগুলোর ফাঁক গলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা।
সূত্র: ইউএসএ টুডে








