হরমুজ সংকটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকটের কারণে রান্নার গ্যাস (এলপিজি) আমদানির কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে ভারত। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর থাকা দেশটি এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে ভারতীয় সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলো (ওএমসি)।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসত পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। তবে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেই নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক বছরের একটি এলপিজি সরবরাহ চুক্তি করে ভারত। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে সংকট দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। গ্যাসবাহী একাধিক জাহাজ আটকে পড়ায় বিকল্প উৎসের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ভারত বছরে প্রায় ২২ লাখ টন এলপিজি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটও সহজে মোকাবিলা করা যাবে।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালীতে জটিলতা তৈরি হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকেই অতিরিক্ত এলপিজি আমদানি করে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছিল ভারত। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি এলপিজি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৮ শতাংশেরও কম এসেছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর সেই হার বেড়ে ১২ শতাংশে পৌঁছে। ফেব্রুয়ারিতে তা হয় ১৩ শতাংশ।
মার্চে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হওয়ার পর আমদানির চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ওই মাসে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৩৭ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এপ্রিল মাসে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে, মে মাসে ৫৫ শতাংশে এবং জুনে ৬৫ শতাংশে পৌঁছে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভারতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও এলপিজির সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে খুব বেশি দেশ বড় পরিসরে রান্নার গ্যাস রপ্তানি করে না।
এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকেও এলপিজি আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক দেশের ওপর নির্ভর করে আমদানি ব্যবস্থা গড়ে তুললে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।








