শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ছররা গুলির অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদনে কয়েকজন বিক্ষোভকারীর শরীরে পেলেট বা ছররা গুলির আঘাতের উল্লেখ থাকলেও এ অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং পেলেট গান ব্যবহার করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সফদরজং হাসপাতালের একটি চিকিৎসা প্রতিবেদনে ২৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতের চারপাশের চামড়া কালচে হয়ে গেছে এবং সেখানে ছররা গুলির টুকরো আটকে ছিল।
এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিক্ষোভকারীকে ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেলেট গান ও শক ব্যাটন সাধারণত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অধীন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি র্যাফও যন্তর মন্তর এলাকায় মোতায়েন ছিল। তবে পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।
বিজ্ঞাপন
ভারতে প্রথম ২০১০ সালে কাশ্মীরে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। পরে তা বন্ধ করা হলেও ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে আবারও এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। একটি পেলেট কার্তুজ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০টি ধাতব বা রাবারের ছররা উচ্চগতিতে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং যারা পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার অপ্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জাতির শত্রু হিসেবে বিবেচনা করেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে আহতদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে এক তরুণের ডান চোখে ছররা গুলি লাগার অভিযোগ উঠেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আহত ৬০ জনের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া গুরুগ্রামের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরির মুখমণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে সাতটি ছররা গুলির আঘাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে সেখানে তার প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
সূত্র: এনডিটিভি








