Logo

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনে কটূক্তিকারীরা পথভ্রষ্ট: মোদি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৩২
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনে কটূক্তিকারীরা পথভ্রষ্ট: মোদি
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বিরুদ্ধে ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সময় কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ‘পথভ্রষ্ট’ ও ‘বিভ্রান্ত সন্তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের শাস্তি দেওয়ার বদলে সঠিক পথে ফেরানোই বেশি জরুরি।

বিজ্ঞাপন

গত মে মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এতে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে পরের মাসে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এ ঘটনার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের নেতৃত্বে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলন শুরু হয়। পরে আন্দোলনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও আন্দোলনকারীদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে মন্তব্য করার পর বিক্ষোভকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ নামে পরিচিত করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম, ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপের মাধ্যমে তারা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলে ধরেন। নয়াদিল্লিতে বড় সমাবেশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরবর্তীতে সরকার আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা না করার আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এরপরও বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে শত শত বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

কিছু আন্দোলনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর স্লোগানও দিয়েছিলেন। একই সময়ে মোদির সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী বিক্ষোভকারী ও কিশোরীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং তাদের ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, আন্দোলনকারীরা পথভ্রষ্ট সন্তান এবং তাদের সঠিক পথ দেখানো দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তার মতে, শাস্তি দেওয়া, আদালতে ঘোরানো কিংবা সামাজিকভাবে হয়রানি করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

মোদি আরও বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এমন আচরণকে তিনি দেশের সংস্কৃতির জন্য আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে আন্দোলনকারীদের ক্ষমা করার কথা জানান।

গত মাসে দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। সংসদের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, ছররা গুলি ও লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাধিকা কুমারের দাবি, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের বিষয়ে মোদি নীরব থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী নৈতিকতার কথা বলে আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ জুলাই আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে। শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অপসারণের দাবিও জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষাব্যবস্থা সংক্রান্ত আইন সংশোধনের একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শুক্রবার পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হায়দরাবাদে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ফেসবুকে মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে।

আদালতের নির্দেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেআইনি কনটেন্ট সরানোর সময়সীমাও কমানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আইনি নির্দেশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে প্ল্যাটফর্মগুলোকে। এর আগে এ সময়সীমা ছিল ৩৬ ঘণ্টা।

সূত্র: আল জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD