Logo

ইরান যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন পিছু হটতে বলল সৌদি?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ আগস্ট, ২০২৬, ২১:৩৭
ইরান যুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কেন পিছু হটতে বলল সৌদি?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা না চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। তেহরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মনে করছে রিয়াদ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে সম্ভাব্য ইরান হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ। এর আগে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন ট্রাম্প।

সৌদি আরবের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ বিন ফারাহ আল-শায়া বলেন, ভিশন ২০৩০ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়। এটি সৌদি অর্থনীতিকে বহুমুখী ও টেকসই করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে দেশটির অবস্থান শক্তিশালী করার একটি জাতীয় প্রকল্প।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের উদ্বেগের বড় কারণ হলো ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে এর প্রভাব পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তেহরান ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি এবং অবকাঠামোগত স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে রিয়াদ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডানা স্ট্রোলের মতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ যথেষ্ট নয়—এ বিষয়টি সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক সামরিক অভিযানও হুথিদের হুমকি পুরোপুরি দূর করতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

স্ট্রোল মনে করেন, সৌদি আরব যদি হুথিদের সঙ্গে আবার বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা দেশটির ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ইয়েমেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবকে দেখিয়েছে যে হুথিদের মোকাবিলায় সামরিক শক্তির পাশাপাশি অন্য কৌশলও প্রয়োজন। বিষয়টি শুধু সৌদির সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; হুথিদের হুমকির ধরন, ইরানের কাছ থেকে তাদের পাওয়া সহায়তা এবং ইয়েমেনে তাদের শক্ত অবস্থানও এর সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালালে কিংবা কোনো দেশ সেই হামলায় সহায়তা করলে তেহরান কঠোর জবাব দেবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে কাতার। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় খুঁজতে কাতারের কর্মকর্তারা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: নিউজউইক

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD