মার্কিন হামলায় ইরানে শিশুসহ নিহত ১৮, আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন চাইলে ‘যেকোনো সময়’ তেহরানে হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই সর্বশেষ মার্কিন হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০৮ জন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পের এই হুমকির আগে জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এসব হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছের কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও হামলার শিকার হয়।
মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন, ইরাক ও জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আগের রাতে ইরানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশে ইরান যে নতুন সামরিক সরঞ্জাম তৈরির চেষ্টা করেছিল, সেগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আবার হামলা চালানোর প্রস্তুতির কথাও জানান ট্রাম্প।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ-রেজা জাফরঘান্দির ভাষ্য, নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। তাদের একজনের বয়স ছিল চার বছর। কুহেস্তাকের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই কুহেস্তাকের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করা হয়নি— যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খানের মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই ‘অস্বস্তিকর কৌশলগত অবস্থানে’ চলে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে না পারলেও যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যয় বাড়ানোর চাপ তৈরি করতে চাইছে তেহরান।
সূত্র: আল-জাজিরা








