সু চিকে নিয়ে নমনীয়তার বার্তা দিলেন মিন অং হ্লেইং

মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির প্রতি ‘অত্যন্ত নমনীয়’ আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং। বুধবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি সু চির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সাময়িকী টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিন অং হ্লেইং বলেন, “আমি তার প্রতি অত্যন্ত নমনীয় থেকেছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি যাতে এই পর্যায়ে না পৌঁছায়, সে জন্য আমরা সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছিলাম।” তার এই মন্তব্য সু চির বর্তমান বন্দিদশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মিন অং হ্লেইং চলতি বছরের এপ্রিলে সেনাপ্রধানের পদ ছাড়ার পর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এরপর থেকে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সু চির বিষয়ে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়ে মিন অং হ্লেইং বলেন, তার ক্ষমার বিষয়টি ‘তার নিজের ওপরই নির্ভর করছে’। তবে পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার মতো কোনো সুযোগ তৈরি হলে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে রাজধানী নেপিদোতে গৃহবন্দি রাখা হয়। আগস্টে থাইল্যান্ড সফরের আগে তার সঙ্গে রেড ক্রসের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বৈঠকের কিছু বিরল ছবিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
এদিকে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন এবং সু চির দলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচিত হয়েছে। চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিন অং হ্লেইং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছেন।
মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়েও টাইমকে নিজের অবস্থান জানান মিন অং হ্লেইং। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের তো নানারকম রূপ থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “মার্কিন গণতন্ত্র রয়েছে, আবার ইউরোপীয় গণতন্ত্রও রয়েছে। আমি এটি নিশ্চিত করব যেন মিয়ানমার এমন এক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পায়; যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”








