আমিরাতে নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরানের আরও একটি ব্যাংক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ব্যাংক মেলির সব শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইউএইর আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রম এবং বীমা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত ফেডারেল ডিক্রি-ল নম্বর ৬/২০২৫-এর ১৬৮-১-সি ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যে ইউএইর আইন, প্রবিধান ও তদারকি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না মানার বিষয় রয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে।
এর মধ্যে অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরান-সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখতে হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনার পর আমিরাতে ব্যাংক মেলির সব শাখাকে ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক অর্থায়ন ও তহবিল স্থানান্তরের মতো কার্যক্রমও রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ইউএইর আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি অব্যাহত থাকবে। দেশটির নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
ব্যাংক মেলি ইরান দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইউএই ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক ও আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে দেশটির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন আরও কঠোর নজরদারির আওতায় এসেছে।
এর আগে ইরান-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম নিয়েও ইউএইতে নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ দেখা গেছে। গত আগস্টে ইউএই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশটিতে কার্যরত ব্যাংক মিসরের শাখাগুলো নিয়ে জরুরি পর্যালোচনা শুরু করেছিল; পরে ব্যাংকটির ইউএই কার্যক্রম অধিগ্রহণে ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইজিপ্ট প্রাথমিক অনুমোদন পায়।
বিজ্ঞাপন
ব্যাংক মেলির বিরুদ্ধে ইউএইর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সরাসরি সমন্বিত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের আর্থিক খাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক চাপ ও নজরদারি সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।








