জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিশ্বনেতাদের আনাগোনা চলছে। যুদ্ধ, সংঘাত, বাণিজ্য ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু নাটকীয় ও আলোচিত ঘটনাও আবার সামনে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন অনেক মুহূর্ত রয়েছে, যেগুলো বিশ্বরাজনীতির বাইরেও মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলো।
ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে চার ঘণ্টার ভাষণ (১৯৬০)
১৯৬০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ২৬৯ মিনিট বা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এটি সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া ভাষণ হিসেবে জাতিসংঘের আর্কাইভে উল্লেখ রয়েছে। ভাষণে তিনি মার্কিন নীতির সমালোচনা এবং কিউবার বিপ্লবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০)
১৯৬০ সালের অধিবেশনে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ উত্তেজিত হয়ে টেবিলে হাত দিয়ে আঘাত করেছিলেন—এ ঘটনা জাতিসংঘের আর্কাইভেও নথিভুক্ত রয়েছে। তবে তিনি জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করেছিলেন কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি কিংবদন্তি রয়েছে। জাতিসংঘের নিজস্ব আর্কাইভ জানিয়েছে, ওই ঘটনার এমন কোনো দৃশ্য তাদের সরকারি ফুটেজে পাওয়া যায়নি।
হুগো চ্যাভেজের ‘শয়তানের গন্ধ’ মন্তব্য (২০০৬)
বিজ্ঞাপন
২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ জাতিসংঘের মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বুশের আগের দিনের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে চ্যাভেজ বলেন, সেখানে ‘শয়তান’ এসেছিল এবং তার উপস্থিতির গন্ধ এখনো পাওয়া যাচ্ছে। বক্তব্যটি দ্রুত আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গাদ্দাফির হাতে জাতিসংঘ সনদ ছেঁড়া (২০০৯)
২০০৯ সালে লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি সাধারণ পরিষদে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দীর্ঘ বক্তব্য দেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করেন এবং জাতিসংঘ সনদের একটি পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায়ও আলোচনায় আসেন।
বিজ্ঞাপন
নেতানিয়াহুর ‘বোমা’ কার্টুন (২০১২)
২০১২ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ঝুঁকি বোঝাতে একটি বড় বোমার কার্টুনচিত্র ব্যবহার করেন। চিত্রটিতে লাল কালি দিয়ে একটি সীমারেখা টেনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ তুলে ধরেন তিনি।
ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)
বিজ্ঞাপন
২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উল্লেখ করেন এবং উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করার হুমকি দেন। বক্তব্যটি সে সময় ব্যাপক আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দেয়।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)
২০২৪ সালে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটের আগে ইসরায়েলের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান ছোট একটি শ্রেডার ব্যবহার করে জাতিসংঘ সনদের একটি অনুলিপি কেটে ফেলেন। ফিলিস্তিনের সদস্যপদের উদ্যোগের প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’ (২০২৫)
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পকে বহনকারী এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করেন এবং তদন্তের কথা জানান। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা পরে জানান, এস্কেলেটরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে এটি বন্ধ হয়েছিল এবং ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত ওই ব্যবস্থা সক্রিয় করে থাকতে পারেন।
এসব ঘটনার বাইরেও জাতিসংঘের দীর্ঘ অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্য বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘ বক্তব্য, ব্যস্ত সূচি ও একের পর এক বৈঠকের কারণে এমন দৃশ্যও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।








