অবরোধে ইরানে ওষুধের দাম আকাশছোঁয়া, বিপাকে রোগী ও পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানে ওষুধের দাম বেড়েছে এবং কিছু চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কিছু ওষুধের দাম তিনগুণের বেশি বেড়েছে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা চার থেকে ছয়গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সাত মাসে ইরানের অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে। মুদ্রার মান রেকর্ড পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। রসায়ন ও ফার্মেসি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরান নিজেদের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি ওষুধ দেশে উৎপাদন করলেও উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। যুদ্ধের আগে ওষুধ ও ঔষধি উপাদানের বড় অংশ সমুদ্রপথে দেশে আসত। মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে সেই সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারকদের তুলনামূলক ব্যয়বহুল আকাশপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তেহরানের বাসিন্দা গোলামরেজা রহমানি সম্প্রতি তার ১২ বছর বয়সী মেয়ের জন্য চার ধরনের ওষুধ কিনতে দুই দিন ধরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরেছেন। তার ভাষ্য, প্রতিটি ফার্মেসিতে এক-দুটি ওষুধ পাওয়া গেলেও সবগুলো একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। একটি ওষুধ কোথাও না পাওয়ায় তাকে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হয়েছে। এ কারণে দুই দিন কাজেও যেতে পারেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানের ওষুধ শিল্পে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক লেনদেনে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো সরাসরি ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ না করলেও ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানের সঙ্গে লেনদেন করতে অনীহা দেখায়। ফলে বৈধভাবে ওষুধ বিক্রির সুযোগ থাকলেও অর্থ পরিশোধ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজা মাজদজাদেহ।
এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান হামলায় ৪০টির বেশি ওষুধ কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
ফার্মেসিগুলোও অর্থসংকটে পড়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জামালিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিমা কোম্পানিগুলো ফার্মেসির পাওনা পরিশোধে নয় মাস পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। ফলে অনেক ফার্মেসির পক্ষে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইরানের সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার দরপতনের কারণে প্রায় ২ হাজার ধরনের ওষুধের দাম সংশোধন করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত কিছু প্রয়োজনীয় ট্যাবলেটের দাম সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় ৩৫০ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধের দামও বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে হাসপাতালগুলোতে এখনো বড় ধরনের ওষুধসংকটের ব্যাপক চিত্র দেখা যায়নি। সরকারি পর্যায়ে হাসপাতালের সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তারপরও বিশেষায়িত মানসিক রোগের কিছু ওষুধের সংকট এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় ওষুধ সরবরাহে বিলম্বের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








