ইরান অভিযানে ৮১ মার্কিন বিমান-ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে গত আট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২, এমকিউ-৯ রিপারসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ ও সহায়ক উড়োজাহাজ।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলো ধ্বংস হয়নি; কিছু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও কাজে ফিরেছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এই হিসাব ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে।
সিআরএসের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২।
ড্রোনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমকিউ-৯ রিপারে। সিআরএসের তালিকায় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন রয়েছে। নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হামলা পরিচালনায় ব্যবহৃত এই ড্রোনের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন বিমান সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় তিনটি এফ-১৫ই ধ্বংস হয়। পরে এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশে অভিযান চালানোর সময় আরও একটি এফ-১৫ই হারায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিমান পরে আবারও সেবায় ফিরেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মার্চে একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে সেটি মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারে আনা হয়। এ ছাড়া মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার, আকাশপথে নজরদারি ও কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ই-৩ সেন্ট্রিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ সিরিজের ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার। সব মিলিয়ে তালিকাটি ৮১টি উড়োজাহাজে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
ই-৩ সেন্ট্রির ক্ষতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিমান আকাশপথে দীর্ঘপাল্লার নজরদারি এবং সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সীমিত সংখ্যায় থাকা এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের ক্ষতি মার্কিন বাহিনীর জন্য তুলনামূলক বড় সক্ষমতাগত চাপ তৈরি করতে পারে।
সিআরএসের বর্তমান হিসাব মে মাসে প্রকাশিত আগের সংস্করণের তুলনায় বড়। আগের প্রতিবেদনে ৪২টি উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছিল। তবে নতুন হিসাবে সংখ্যা ৮১ হওয়া মানেই মে মাসের পর অতিরিক্ত ৩৯টি উড়োজাহাজ হারিয়েছে—এমন নয়। নতুন তথ্য, আগের ঘটনায় অপ্রকাশিত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এবং তথ্য যাচাইয়ের কারণে তালিকায় পরিবর্তন এসেছে।
বিজ্ঞাপন
সিআরএস জানিয়েছে, তাদের হিসাব তৈরি করা হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। ফলে এটি চূড়ান্ত সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নয় এবং পরবর্তী সময়ে এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে, কংগ্রেসের বিশ্লেষণে এসব ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাবও গুরুত্ব পাচ্ছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত হারানো সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয় পরিস্থিতি ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে প্রায় ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই হিসাব শুধু উড়োজাহাজের নয়, সামগ্রিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের ব্যয়কে নির্দেশ করে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও উড়োজাহাজে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা সামনে এসেছে। সিআরএসের সর্বশেষ হিসাব সেই ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরেছে।








