সৌদির কিং খালিদ বিমানবন্দরে ফের হুথিদের হামলা

গত বুধবারের হামলার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বিজ্ঞাপন
হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় ভোরে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হুথি যোদ্ধারা। ওই হামলায় দুই বিমানবন্দরে তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দর দুটির পাশাপাশি বুধবার সৌদি আরবের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করে হুথিরা। হামলায় হতাহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় ইয়েমেনের সরকার।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর এক দিনের মধ্যেই রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফা হামলার দাবি করল হুথি বিদ্রোহীরা। ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারবিরোধী হুথি যোদ্ধারা সৌদিতে ধারাবাহিক হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানানোর এক দিন পর এবং রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন এই হামলার দাবি সামনে এলো।
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালে। পরের বছর রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা। তবে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সৌদি আরবের সহযোগিতায় ওই অঞ্চল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল পরিচালনা করে আসছে।
বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের পর ২০২২ সালে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যায় হুথিরা। তবে সেই শান্তি ও স্থিতাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের জুলাইয়ে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হুথিরা ভূখণ্ড দখলের লড়াইয়ে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আবারও সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিল সরকারের পাশাপাশি সৌদি আরবও হুথিদের অন্যতম প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচিত। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে তিনবার সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি বাহিনী।
এদিকে বুধবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইয়েমেনে সম্প্রতি নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এএফপি








