Logo

কয়েদিদের দিয়ে বাসার কাজ করিয়ে নিজেই কারাগারে বন্দি নারী জেলার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:০২
কয়েদিদের দিয়ে বাসার কাজ করিয়ে নিজেই কারাগারে বন্দি নারী জেলার
ছবি: সংগৃহীত

দুই সন্তানের দেখাশোনা ও ঘরের কাজ করানোর জন্য কারাগার থেকে দুই নারী বন্দিকে নিজের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন এক নারী জেলার। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারানোর পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত তাঁকেও কারাগারে বন্দি হতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারের। অভিযুক্ত সাবেক নারী জেলার দিব্যা চৌধুরী। ৩৭ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা আজমির শহরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর বাসা থেকে আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারের দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। সেখানে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাঁর স্বামীও রাজস্থানের কোটা শহরে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিসের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংসার সামলাতে গিয়ে নারী বন্দিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন দিব্যা চৌধুরী। গত ১২ জুলাই আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীন মহিলা সংশোধনাগার থেকে দুই নারী বন্দিকে বাসার কাজে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

ওই দুই বন্দির একজন ছিলেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কিরণ ওরফে সেঠা। অন্যজন সানা, যিনি তখন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে কারাগারের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনকারী অন্য কারারক্ষীরা তাঁদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আটকে দেন। অভিযোগ রয়েছে, দিব্যা চৌধুরী ও তাঁর সহকর্মী কনস্টেবল সোনিয়া চৌধুরী তাঁদের বাধা উপেক্ষা করেন। এমনকি ফটকে থাকা কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই বন্দিকে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তাঁরা।

ঘটনাটি দ্রুত জানাজানি হয়ে যায়। ফলে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ওই দুই বন্দিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজস্থানের কারাবিধি-২০২২ অনুযায়ী, এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি। আদালতের নির্দেশে বা কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা বন্দিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঘটনার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দিব্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে গত ৫ আগস্ট আজমিরের সিভিল লাইন্স থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন কারাগারের এক প্রহরী।

মামলা দায়েরের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান দিব্যা চৌধুরী। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য আজমির পুলিশ একটি বিশেষ দল গঠন করে। ওই দলে সাইবার সেলের সদস্যদেরও যুক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ ও মুঠোফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

এরপর গত ৬ অক্টোবর রাজস্থানের কোটা শহরে দিব্যার স্বামীর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন দিব্যা চৌধুরী। তাঁর দাবি, তিনি মুক্ত কারাগার থেকে বন্দি নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, মুক্ত কারাগারের বন্দিদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাঁর সহকর্মী সোনিয়া চৌধুরী ভুল করে সাধারণ কারাগারের দুই বন্দিকে নিয়ে আসেন।

তবে দিব্যা চৌধুরীর এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের পরবর্তী অবস্থান কী, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD