Logo

মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ইরানের অস্ত্রভান্ডার সচল রাখছে গোপন নেটওয়ার্ক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:১৯
মার্কিন অবরোধ এড়িয়ে ইরানের অস্ত্রভান্ডার সচল রাখছে গোপন নেটওয়ার্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক এবং ভারী ট্রাক আমদানির জন্য বিশ্বজুড়ে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের সরঞ্জাম আমদানি করেছে দেশটি।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামের আদ্যক্ষর ‘MOD’ দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি সংস্থার মাধ্যমে নেটওয়ার্কটি পরিচালিত হচ্ছে। এসব সংস্থা দেশটির সামরিক ও আর্থিক কার্যক্রমের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের নথি ও জাহাজের চালানসংক্রান্ত তথ্যে এসব সংস্থার আর্থিক লেনদেনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

কিছু সংস্থার সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘বুনিয়াদ’ নামে পরিচিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ১৮ মাসে ‘MOD 346428’ নামের একটি সংস্থা বিপুল পরিমাণ রকেটের জ্বালানি, বিস্ফোরক এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করেছে। এসব উপকরণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ব্যবহার করা যায়, এমন ভারী ট্রাকও আমদানি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে এসব সরঞ্জাম ইরানে প্রবেশ করেছে। আমদানি নথিতে এর বড় একটি অংশের উৎপত্তিস্থল হিসেবে চীন, রাশিয়া ও জার্মানির নাম উল্লেখ রয়েছে।

হাজার হাজার ইরানি ব্যাংক ও সরকারি নথি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য এবং আমদানি-সংক্রান্ত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে রয়টার্স।

নথি অনুযায়ী, গোপন নেটওয়ার্কের সব সংস্থার ঠিকানা ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনীর সরবরাহ মন্ত্রণালয় বা মোদাফলের (MODAFL) তেহরানের ঠিকানার সঙ্গে মিলে যায়। সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের তারিখ হিসেবে ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে নথিপত্রে দেখা গেছে, এসব সংস্থার অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও মুদ্রার মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল।

ইসরায়েলি-মার্কিন ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ২৪০ অ্যানালিটিকসের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত অনুসন্ধানে রয়টার্স প্রথমবারের মতো এসব সংস্থার পরিচয় শনাক্ত করেছে। সংস্থাগুলো ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ও নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আমদানির ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী ও বিদেশি ভুয়া কোম্পানির একটি ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে ‘ট্রাস্টি’ বলা হয়। তারা অবৈধভাবে তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে ইরানের জন্য বিভিন্ন পণ্য কেনে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাও এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। ৯১টি সংস্থার নামে নিবন্ধিত ফোন নম্বরের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ব্যাংক সেপাহর নথিতে থাকা আইআরজিসি সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের তথ্যের মিল পাওয়া গেছে।

তাদের মধ্যে অন্তত দুজন কমান্ডার রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন অংশের ওপর কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নথিতে উল্লেখ করা সংখ্যাভিত্তিক কোনো সংস্থাকেই পশ্চিমা সরকারগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি বলেন, ‘এটি চলমান সংঘাতের সময় এবং এর বহু বছর আগেও ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সামরিক কার্যক্রম সচল রাখার অন্যতম প্রধান ব্যবস্থা। ইরানের সামরিক বাণিজ্যের পুরো ব্যবস্থাই এখানে রয়েছে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র আমদানি নেটওয়ার্ক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বহু কাঁচামাল সরবরাহ করছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিকভাবে নির্ভুল হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের চাপ মোকাবিলায় সক্ষম হচ্ছে দেশটি।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD