Logo

‘আমি কেন বেঁচে আছি’, ১২ স্বজন হারিয়ে প্রতিদিন কাঁদেন হামেদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫৯
‘আমি কেন বেঁচে আছি’, ১২ স্বজন হারিয়ে প্রতিদিন কাঁদেন হামেদ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন যে বাড়িতে ফিরতেন, সেই বাড়িই কেড়ে নিল তাঁর পুরো পরিবার। স্ত্রীকে নিয়ে নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুহূর্তেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইরানের তরুণ হামেদ মির্জাঈয়ের। স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়ে এখন বেঁচে থেকেও নিজেকে মৃত মনে করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে চালানো ওই হামলায় নিহত হন হামেদের ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদেসেহসহ পরিবারের ১২ সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বাবা-মা, দাদা-দাদি এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়। যে ভবনে হামলাটি হয়েছিল, সেটি ছিল তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি। কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়িই পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।

ধ্বংসস্তূপের স্মৃতিচারণ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বোমা হামলার পর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আমি সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার প্রিয় মানুষগুলোকে খুঁজে ফিরছি।’

তিনি বলেন, ‘যে বাড়িটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, সেটি তৈরি করেছিলেন আমার দাদা এবং বাবার চাচা। পরবর্তীতে তারা নিজেদের সন্তানদের মধ্যে বাড়ির অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভাগ করে দেন। এক বছর আগে যখন আমি বিয়ে করি, তখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে ওই ভবনেরই একটি অ্যাপার্টমেন্টে উঠি। আমরা তখন কেবলই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

বিজ্ঞাপন

হামেদ মির্জাঈ, ‘আমরা তরুণ ছিলাম, পুরো জীবনটাই সামনে পড়ে ছিল। ঠিক তখনই সেই বোমা হামলা সবকিছু শেষ করে দিল।’

সেদিন ঠিক কি হয়েছিল সে প্রশ্নের জবাবে হামেদ বলে, ‘মার্চ মাসের ৯ তারিখ ছিল সোমবার। দুপুর ১টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর আড়াইটার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে বলে, ফেরার পথে যেন তার জন্য মাথাব্যথার কিছু ওষুধ নিয়ে আসি। সে ঠিক কোন ওষুধটি চায় তা জানতে আমি তাকে ফোন করি, কিন্তু তার নম্বর ব্যস্ত পাচ্ছিলাম। সেদিন আমাদের বাড়িতে মেহমান আসার কথা ছিল, তাই আমি মেহমানের নম্বরে ফোন করি। সেই নম্বরটিও ব্যস্ত পাই। ফোন রেখে আমি ভাবলাম, একটু পর স্ত্রীকে আবারও চেষ্টা করব।’

‘বাড়ি পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি, ঠিক তখনই হঠাৎ এক বিকট বাঁশির মতো শব্দ শুনতে পাই। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক তখনই আঘাত হানে।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

‘বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমার পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। তখনও হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে স্ত্রীকে বারবার কল করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তার ফোন ছিল নেটওয়ার্কের বাইরে। একে একে পরিবারের সবাইকে—আমার দাদা, বাবা, মা—ফোন দেওয়া শুরু করি। কারও ফোনই কাজ করছিল না।’

‘এত কিছুর পরও আমি ভেবেছিলাম আমার বাড়িতে হয়তো আঘাত লাগেনি। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম, কোনোভাবেই তাদের আমার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করার কথা নয়। হয়তো আমাদের মহল্লার অন্য কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র আকুতি ছিল কোনোমতে বাড়ি পৌঁছে দেখা যে, সেটা এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে।’

‘কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে আমাদের বাড়টিতে। সেখানে পৌঁছে দেখি আশেপাশের সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু আমার পা সরছিল না। আমার ঘর যে মাটির সাথে মিশে গেছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সেই সুবিশাল ভবনের কেবল কঙ্কালটুকুই অবশিষ্ট আছে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, চারপাশ তখন আগুনে জ্বলছে। আমার মাথায় তখন একটিই চিন্তা—যেকোনোভাবে দ্বিতীয় তলায় উঠে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি ছিল না। প্রথম তলার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাদের উদ্ধারে সাহায্য করছিলেন।’

‘আমি ভেবেছিলাম অনুসন্ধান চালুর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কোথাও হয়তো আমার পরিবারের মানুষদের জীবন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু তারা পাননি। সেই মুহূর্তে কাউকেই পাওয়া যায়নি, এমনকি তার পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেও না। রাত নেমে এলেও ভবনটি থেকে আর কাউকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের বারোটি মানুষ মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে গেল, অথচ আমি সেই স্থান ছেড়ে এক পা-ও নড়তে পারছিলাম না।’

‘সেই রাত, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং তারও পর থেকে প্রতিটা দিন—আমি বারবার ফিরে গিয়েছি আমার সেই ধ্বংসস্তূপে। টানা ২০ দিন ধরে আমি সেই ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ আর বিস্ফোরণের ছাই সরিয়ে আমার প্রিয়জনদের খুঁজেছি। কিন্তু সেখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট ছিল না। আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, আমার ফুফা ও ফুফাতো বোন, আমার চাচা, আমার বাবার চাচাতো ভাই, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান—সবাই এক হামলায় শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবারের ১২ জন মানুষকে এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে, আর মানুষ এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কেমন আছি? আমার জীবন এখানেই দাফন হয়ে গেছে’।

বিজ্ঞাপন

‘কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কী ভাবছি বা কেমন বোধ করছি, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। জীবনে যা কিছু করেছি, সব করেছি পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য। এখন আমার আর এমন কোনো পরিবারই নেই যাদের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারি।’

প্রতিদিন নিজের বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন জাগে তাঁর মনে। হামেদের ভাষায়, ‘প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করি: ‘আমি কেন এখনও বেঁচে আছি?’ আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই।’

সবশেষে নিজের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, তা যেন যুদ্ধের ভয়াবহতার এক নির্মম চিত্র। তিনি বলেন, ‘আমার নিহত পরিবারের সাথে আমার একটাই পার্থক্য—তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে মাটিচাপা পড়ে আছে, আর আমি মৃতদেহের মতো বাইরে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়া তাদের সাথে আমার আর কোনো তফাত নেই। পার্থক্য কেবল একটাই, নিহতদের তালিকায় আমার নামটা এখনও ওঠেনি।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন যে বাড়িতে ফিরতেন, সেই বাড়িই কেড়ে নিল তাঁর পুরো পরিবার। স্ত্রীকে নিয়ে নতুন সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও করছিলেন। কিন্তু একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মুহূর্তেই সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইরানের তরুণ হামেদ মির্জাঈয়ের। স্ত্রীসহ পরিবারের ১২ সদস্যকে হারিয়ে এখন বেঁচে থেকেও নিজেকে মৃত মনে করছেন তিনি।

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে চালানো ওই হামলায় নিহত হন হামেদের ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী মোহাদেসেহসহ পরিবারের ১২ সদস্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বাবা-মা, দাদা-দাদি এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়। যে ভবনে হামলাটি হয়েছিল, সেটি ছিল তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি। কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা সেই বাড়িই পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।

ধ্বংসস্তূপের স্মৃতিচারণ করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘বোমা হামলার পর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও আমি সেই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আমার প্রিয় মানুষগুলোকে খুঁজে ফিরছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘যে বাড়িটিতে আঘাত হানা হয়েছিল, সেটি তৈরি করেছিলেন আমার দাদা এবং বাবার চাচা। পরবর্তীতে তারা নিজেদের সন্তানদের মধ্যে বাড়ির অ্যাপার্টমেন্টগুলো ভাগ করে দেন। এক বছর আগে যখন আমি বিয়ে করি, তখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে ওই ভবনেরই একটি অ্যাপার্টমেন্টে উঠি। আমরা তখন কেবলই সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।’

হামেদ মির্জাঈ, ‘আমরা তরুণ ছিলাম, পুরো জীবনটাই সামনে পড়ে ছিল। ঠিক তখনই সেই বোমা হামলা সবকিছু শেষ করে দিল।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সেদিন ঠিক কি হয়েছিল সে প্রশ্নের জবাবে হামেদ বলে, ‘মার্চ মাসের ৯ তারিখ ছিল সোমবার। দুপুর ১টার দিকে আমি কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর আড়াইটার দিকে আমার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে বলে, ফেরার পথে যেন তার জন্য মাথাব্যথার কিছু ওষুধ নিয়ে আসি। সে ঠিক কোন ওষুধটি চায় তা জানতে আমি তাকে ফোন করি, কিন্তু তার নম্বর ব্যস্ত পাচ্ছিলাম। সেদিন আমাদের বাড়িতে মেহমান আসার কথা ছিল, তাই আমি মেহমানের নম্বরে ফোন করি। সেই নম্বরটিও ব্যস্ত পাই। ফোন রেখে আমি ভাবলাম, একটু পর স্ত্রীকে আবারও চেষ্টা করব।’

‘বাড়ি পৌঁছাতে আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি, ঠিক তখনই হঠাৎ এক বিকট বাঁশির মতো শব্দ শুনতে পাই। প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক তখনই আঘাত হানে।’

‘বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমার পায়ের তলার মাটি কেঁপে ওঠে। তখনও হাতের মুঠোয় ফোন নিয়ে স্ত্রীকে বারবার কল করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তার ফোন ছিল নেটওয়ার্কের বাইরে। একে একে পরিবারের সবাইকে—আমার দাদা, বাবা, মা—ফোন দেওয়া শুরু করি। কারও ফোনই কাজ করছিল না।’

‘এত কিছুর পরও আমি ভেবেছিলাম আমার বাড়িতে হয়তো আঘাত লাগেনি। মনে মনে নিজেকে বলছিলাম, কোনোভাবেই তাদের আমার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা করার কথা নয়। হয়তো আমাদের মহল্লার অন্য কোথাও ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। সেই মুহূর্তে আমার একমাত্র আকুতি ছিল কোনোমতে বাড়ি পৌঁছে দেখা যে, সেটা এখনও অক্ষত দাঁড়িয়ে আছে।’

‘কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরও পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে আমাদের বাড়টিতে। সেখানে পৌঁছে দেখি আশেপাশের সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, কিন্তু আমার পা সরছিল না। আমার ঘর যে মাটির সাথে মিশে গেছে, তা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এটাই। দূর থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সেই সুবিশাল ভবনের কেবল কঙ্কালটুকুই অবশিষ্ট আছে।’

‘আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, চারপাশ তখন আগুনে জ্বলছে। আমার মাথায় তখন একটিই চিন্তা—যেকোনোভাবে দ্বিতীয় তলায় উঠে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা। কিন্তু দোতলায় ওঠার কোনো সিঁড়ি ছিল না। প্রথম তলার বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাদের উদ্ধারে সাহায্য করছিলেন।’

‘আমি ভেবেছিলাম অনুসন্ধান চালুর পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কোথাও হয়তো আমার পরিবারের মানুষদের জীবন্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু তারা পাননি। সেই মুহূর্তে কাউকেই পাওয়া যায়নি, এমনকি তার পরবর্তী ঘণ্টাগুলোতেও না। রাত নেমে এলেও ভবনটি থেকে আর কাউকে বের করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের বারোটি মানুষ মুহূর্তেই নিখোঁজ হয়ে গেল, অথচ আমি সেই স্থান ছেড়ে এক পা-ও নড়তে পারছিলাম না।’

‘সেই রাত, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং তারও পর থেকে প্রতিটা দিন—আমি বারবার ফিরে গিয়েছি আমার সেই ধ্বংসস্তূপে। টানা ২০ দিন ধরে আমি সেই ধ্বংসস্তূপ, ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ আর বিস্ফোরণের ছাই সরিয়ে আমার প্রিয়জনদের খুঁজেছি। কিন্তু সেখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট ছিল না। আমার স্ত্রী মারা গেছে। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, আমার ফুফা ও ফুফাতো বোন, আমার চাচা, আমার বাবার চাচাতো ভাই, তার স্ত্রী এবং তাদের সন্তান—সবাই এক হামলায় শেষ হয়ে গেছে। আমার পরিবারের ১২ জন মানুষকে এই হামলায় হত্যা করা হয়েছে, আর মানুষ এখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘আমি কেমন আছি? আমার জীবন এখানেই দাফন হয়ে গেছে’।

‘কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে আমি কী ভাবছি বা কেমন বোধ করছি, আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। জীবনে যা কিছু করেছি, সব করেছি পরিবারের হাসিমুখ দেখার জন্য। এখন আমার আর এমন কোনো পরিবারই নেই যাদের জন্য আমি কিছু একটা করতে পারি।’

প্রতিদিন নিজের বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন জাগে তাঁর মনে। হামেদের ভাষায়, ‘প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করি: ‘আমি কেন এখনও বেঁচে আছি?’ আমার কাছে এর কোনো জবাব নেই।’

সবশেষে নিজের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে যে কথাগুলো বলেছেন, তা যেন যুদ্ধের ভয়াবহতার এক নির্মম চিত্র। তিনি বলেন, ‘আমার নিহত পরিবারের সাথে আমার একটাই পার্থক্য—তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে মাটিচাপা পড়ে আছে, আর আমি মৃতদেহের মতো বাইরে হেঁটে বেড়াচ্ছি। এ ছাড়া তাদের সাথে আমার আর কোনো তফাত নেই। পার্থক্য কেবল একটাই, নিহতদের তালিকায় আমার নামটা এখনও ওঠেনি।’

সূত্র: আলজাজিরা

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD