Logo

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতায় ঘাটতি নেই: শামা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতায় ঘাটতি নেই: শামা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি

ভারত থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং এ প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নতুন নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই কার্যক্রম আবারও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময় লাগে। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রচলিত কূটনৈতিক বিধি অনুসরণ করেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি অথবা প্রযোজ্য অন্য কোনো আইনি কাঠামোর আওতায় দণ্ডিত কোনো ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। তাই বিষয়টি ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, এই পুরো কার্যক্রম কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

তার ভাষায়, প্রত্যর্পণের মতো একটি বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।

ভারত সরকারের সহযোগিতা কিংবা সম্ভাব্য আইনি জটিলতা সম্পর্কে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শৈথিল্য নেই এবং এ বিষয়ে তার কোনো উদ্বেগও নেই।

বিজ্ঞাপন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মন্তব্য করেন, পলাতক ও দণ্ডিত একজন আসামির ব্যক্তিগত বক্তব্য চলমান আইনি বা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি আদালত শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, গুম এবং বিভিন্ন ধরনের অবিচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনা কী বলছেন বা কোনো বিষয়ে কী মন্তব্য করছেন, সেটি সরকারের প্রত্যর্পণ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। মূল বিষয় হলো, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। বর্তমান সরকারও সেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এরপর দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে যে, দুর্নীতি, হত্যাকাণ্ড, গুমসহ যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশের মাটিতেই একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি আইন, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তাই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরে প্রতিষ্ঠিত আইনি পথ অনুসরণ করাই সরকারের নীতি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD