Logo

প্রশাসনের শীর্ষ পদে আসছে বড় রদবদল, চলছে প্রস্তুতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:৩৫
প্রশাসনের শীর্ষ পদে আসছে বড় রদবদল, চলছে প্রস্তুতি
প্রতীকী ছবি

দেশের জনপ্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আবারও বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলেছে। চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ পদ শূন্য হওয়ায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন ও পদায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুধু সচিব পর্যায়েই নয়, অতিরিক্ত সচিবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এসব নিয়োগ ও রদবদল বাস্তবায়ন হবে।

ইতোমধ্যে চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৩০ জুলাই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলামের পদ শূন্য হয়েছে। এছাড়া বদলিজনিত কারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদও বর্তমানে খালি রয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের পদে স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। অন্যদিকে আগামী অক্টোবরে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের অবসরে যাওয়ারও কথা রয়েছে।

এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলার সময় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে একযোগে একাধিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাকে অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত প্রশাসন ক্যাডারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নতুন সচিব নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জ্যেষ্ঠ সচিব কিংবা সচিব পর্যায়ের নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। সিদ্ধান্ত আসার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এরই মধ্যে গত ২৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। একই দিনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান। তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শীর্ষ পর্যায়ের একটি পরিবর্তন শুধু একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় ধারাবাহিকভাবে নতুন পদায়নের প্রয়োজন হয়। ফলে একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব প্রশাসনের বড় অংশজুড়েই পড়ে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই জনপ্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা বহু সচিব ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়, অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া এবং অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম ছয় মাসেই জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পদে ১৪ জন, গ্রেড-১ পর্যায়ে একজন এবং অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে ১৯ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। একই সময়ে ২৩ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব, দুইজন গ্রেড-১ কর্মকর্তা এবং ৫১ জন অতিরিক্ত সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। পরবর্তীতেও এ ধরনের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস চলতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

পরে অন্তর্বর্তী সরকার আবারও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে একসঙ্গে পাঁচজন সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের কয়েকজনের দায়িত্বও পরিবর্তন করা হয়।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে প্রশাসনের দুটি সর্বোচ্চ পদেও পরিবর্তন আসে। তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়েন। এরপর নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চলতি মাসের মাঝামাঝি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসনে নতুন নিয়োগ নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে জনপ্রশাসনে মোট কর্মকর্তা রয়েছেন ৬ হাজার ৬৯৭ জন। এর মধ্যে সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তা ৭৯ জন। তাদের মধ্যে ২৩ জনই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত, যা মোট সচিবের প্রায় ২৯ শতাংশ। এছাড়া বর্তমানে ১০ জন সচিবকে নিজ দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে এবং একজন সচিব ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন।

প্রশাসনের একাংশ মনে করে, অতীতে পদোন্নতিবঞ্চিত অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত রাখতে সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক পদে ফিরিয়ে আনা হলে পদোন্নতির স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হয় এবং কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। তবে এ ধরনের নিয়োগ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যয়ও বাড়তে পারে। তাই ভবিষ্যৎ পদায়নে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD