Logo

পথ হারালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরই দেখাবে নতুন দিশা: ড. ইউনূস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪
পথ হারালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরই দেখাবে নতুন দিশা: ড. ইউনূস
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে কেবল একটি স্মৃতির ভাণ্ডার নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, জাতি যদি কখনো লক্ষ্যচ্যুত হয় বা পথ হারিয়ে ফেলে, তাহলে এই জাদুঘরই তাদের সঠিক পথের সন্ধান দেবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, এই জাদুঘর শুধু অতীতের স্মৃতি ধারণ করে না; এটি ভবিষ্যতের পথচলারও দিকনির্দেশনা বহন করে। তার ভাষায়, “আমরা যদি কখনো পথ হারিয়ে ফেলি, তাহলে এখানে এসে আবার পথ খুঁজে নেব। চিন্তা বা সিদ্ধান্তে যদি কোনো বিচ্যুতি আসে, এখান থেকেই নতুন করে অনুপ্রেরণা নিয়ে যাত্রা শুরু করব।”

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য জাদুঘর থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের বিশেষত্ব একেবারেই আলাদা। কারণ, এখানে বহু বছর পর ইতিহাস সংগ্রহ করা হয়নি; বরং আন্দোলনের ঘটনাগুলো ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট দলিল, স্মারক, ব্যক্তিগত চিঠি, বিভিন্ন নিদর্শন এবং মানুষের অনুভূতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিহাস সংরক্ষণের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও প্রমাণ দ্রুত সংগ্রহ করায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নির্ভুলভাবে সেই সময়ের বাস্তবতা জানতে পারবে।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনে যাওয়ার আগে নিজেদের অনুভূতি লিখে গেছেন। কেউ পরিবারের উদ্দেশে চিঠি লিখেছেন, কেউ ব্যাখ্যা করেছেন কেন তারা রাজপথে নেমেছেন। এসব লেখা শুধু ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি সময়ের সাহস, স্বপ্ন ও বিশ্বাসের দলিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরুণদের মধ্যেও সেই একই আদর্শ ও সাহস গড়ে উঠুক—এটাই প্রত্যাশা। তারা যেন দেশের উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজেদের সম্পৃক্ত করে।

দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সাধারণ মানুষের প্রতি জাদুঘরটি পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অন্তত একবার এখানে আসা উচিত। শুধু প্রদর্শনী দেখে চলে যাওয়া নয়, বরং এখানে বসে নিজের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশের জন্য কী করতে চান, তা লিখে রেখে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ড. ইউনূস আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের কেন্দ্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত, চিত্রকলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মিলনস্থলে পরিণত হবে।

বিজ্ঞাপন

জাদুঘরে নির্মিত প্রতীকী কবরগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি কবরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শহীদের পরিচয়, আত্মত্যাগ এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট সংরক্ষণ করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে, কী আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে তারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তারা কোনো বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ ছিলেন না। তারা ছিলেন সাধারণ পরিবারের সাধারণ ছেলে-মেয়ে, যারা বিশ্বাস করতেন দেশের পরিবর্তন জরুরি এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।

জাদুঘর নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রতিটি নিদর্শন সংগ্রহের পেছনে দীর্ঘ সময়, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম রয়েছে। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জাদুঘর নির্মাণ ও উদ্বোধনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এই জাদুঘর পরিদর্শনে আসবেন। তার মতে, এটি শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়; বরং এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণ করতে পারবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD