Logo

ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা আসছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৩৩
ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা আসছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নীতিমালায় এসব যান কোথায় ও কতটুকু চলতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এতে মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হলেও একই সঙ্গে নানা সমস্যাও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যানজট বাড়ছে এবং রিকশাচালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি এসব যান কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ ও মানসম্মত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার খুব দ্রুত ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করবে। কোন এলাকায় এসব যান চলাচল করতে পারবে এবং কতটুকু এলাকায় চলাচলের অনুমতি থাকবে, পাশাপাশি যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা কেমন হতে হবে—এসব বিষয় নীতিমালায় নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য খাতের অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন মৎস্য পেশাজীবী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পদক দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কৃষির বিভিন্ন খাতে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে মৎস্য খাতও অন্যতম।

বিজ্ঞাপন

এ সময় সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

ফ্যামিলি কার্ডে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অনেক অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তারা তা দ্রুত বাজারে ব্যয় করবেন। এতে শুধু উপকারভোগী পরিবার নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে। অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়ে চাহিদা তৈরি করবে এবং এর ফলে নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উপদেষ্টার মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব তৈরি করতে পারে। অর্থের প্রবাহ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি নয়। এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনযাত্রা ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে চাহিদা এবং কর্মসংস্থান তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

দেশের প্রতিটি পরিবারকে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রতি বছর এর আওতা বাড়ানো হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD