স্ত্রীসহ আ. লীগের সাবেক এমপি-নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুমোদন পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রেজাউল হক চৌধুরী এবং তার ভাই দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরী।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার এবং খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধেও মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সেলিম আলতাফ জর্জের সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকা কম দেখানো এবং ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন হয়েছে।
রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন এবং ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য গোপন এবং ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চারটি ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন করা হয়েছে। নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকার একই ধরনের অভিযোগে পৃথক মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকার অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধেও ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকার একই ধরনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধেও ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
দুদকের মামলা অনুমোদন মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় তথ্য-প্রমাণ যাচাই হবে।








