Logo

আট মাসে দেশে ২৩৬২ হত্যা, অপহরণ ৬৯১

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:৪৯
আট মাসে দেশে ২৩৬২ হত্যা, অপহরণ ৬৯১
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারাদেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯১টি। পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি হত্যা এবং তিনটি অপহরণের মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হত্যা মামলার হিসাবে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে জুনে, ৩২৬টি। সবচেয়ে কম মামলা হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে, ২৫০টি। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি, মার্চে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি, মে মাসে ৩১০টি, জুনে ৩২৬টি, জুলাইয়ে ২৯৮টি এবং আগস্টে ২৮৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় আট মাসে মোট ১৬৮টি হত্যা মামলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। গত ২০ আগস্ট রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যার ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে তার এক বছর বয়সী শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, অপহরণের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। গত ১৩ মে রাজধানীর পল্লবীতে বাসার সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু ইব্রাহিম। সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে তার পেছনে বাসায় ঢুকতে এবং কিছুক্ষণ পর দ্রুত বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর থেকে ইব্রাহিমের সন্ধান মেলেনি।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া গত ২০ আগস্ট মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে মিরপুরের রূপনগরের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১০ বছর বয়সী মো. তানভীর আহমেদ।

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সারাদেশে অপহরণের মামলা হয়েছে ৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৪টি, মার্চে ১০২টি, এপ্রিলে ৯৪টি, মে মাসে ৯০টি, জুনে ৯০টি, জুলাইয়ে ৭২টি এবং আগস্টে ৯২টি। ঢাকায় এ সময় মাসভিত্তিক মামলা হয়েছে যথাক্রমে ১৪, ১২, ২০, ২১, ১৩, ১৭, ১১ ও ২১টি। আট মাসে ঢাকায় অপহরণের মামলা হয়েছে মোট ১২৯টি।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে হত্যা ও অপহরণের মামলা কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে সারাদেশে হত্যা মামলা হয়েছিল ২ হাজার ৬১৪টি এবং অপহরণের মামলা ছিল ৭১৫টি। ঢাকায় ওই সময়ে হত্যা মামলা ছিল ৩২৪টি এবং অপহরণের মামলা ১৭৩টি।

বিজ্ঞাপন

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধের ধরন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পেছনে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ কাজ করে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, দেশে সংগঠিত অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে। তার মতে, চাঁদাবাজির মতো অপরাধের সঙ্গে অপহরণ ও হত্যার যোগসূত্র থাকতে পারে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রাইম প্রিভেনশনের জন্য তিন ধরনের স্ট্র্যাটেজি আছে- প্রাইমারি প্রিভেনশন, সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি।’

তিনি আরও বলেন, অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনীতিমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে আইনের আলোকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল নিয়েও কথা বলেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তার ভাষ্য, বিভিন্ন হামলার ঘটনা ও সেসবের বিচার না হওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। এ অবস্থায় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাউন্সেলিং এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৬ আগস্ট নয়াপল্টনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ও কর্মপরিবেশ নাজুক ছিল। তার দাবি, গত কয়েক মাসে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এবং পুলিশ পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করছে।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কোনো আলোচিত অপরাধের পর তাৎক্ষণিকভাবে তৎপরতা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। তার মতে, আগের অস্থিতিশীলতার প্রভাব এবং আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার মানসিকতা অপরাধের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, অপরাধ প্রতিরোধে মোবাইল ডিউটি, মোটরসাইকেল ও ফুট প্যাট্রোলিং, পিকেট ডিউটি, তল্লাশি, কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশি সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করা হয়। তার দাবি, অনেক ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবিও ছায়া তদন্ত পরিচালনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়।

তথ্য সূত্র : জাগো নিউজ

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD