Logo

বাংলাদেশকে অস্বীকারকারীরাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:১২
বাংলাদেশকে অস্বীকারকারীরাই এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | ছবি: সংগৃহীত

অতীতে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব স্বীকার করেনি, তারাই এখন নানা রকম সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে —এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে রয়েছে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার উদ্দেশ্য।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এখন একটি মহলের চোখে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। যারা একসময় বাংলাদেশকে মেনে নেয়নি, তারাই আজ নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য হলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করা।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনই নির্ধারণ করবে দেশ কোন পথে এগোবে—একটি উদার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে, নাকি উগ্র ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা অতীতে গণহত্যা, নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল, তারা আজও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। ধর্মের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতাকে তিনি ‘অপরাজনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষায়, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাসী হলেও ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে ধর্মীয় মূল্যবোধের স্বীকৃতি দিয়েছেন, আল্লাহর ওপর আস্থার কথা বলেছেন। সে কারণে বিএনপি ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর বিরুদ্ধে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, হাতে আর মাত্র ২৩ দিন সময় আছে। এখনো কেউ কেউ বলছে নির্বাচন হবে না বা হতে দেবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া অনেকেরই জনগণের মধ্যে সমর্থন নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায়, ভোটের মাধ্যমেই জনগণের রায় নিতে চায়। জনগণ যদি সমর্থন দেয়, বিএনপি সরকার গঠন করবে; আর না দিলে বিরোধী দল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভয় দেখানো বা হুমকির রাজনীতি দিয়ে নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই রাজনীতি হওয়া উচিত। জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে কর্মসূচি তুলে ধরতে হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক রূপরেখা, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো কর্মসূচি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD