জনগণ সচেতন, মব দিয়ে রাজনীতি প্রভাবের সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় জামায়াতে ইসলামী। যেখানে জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন থাকবে এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা সন্ত্রাসের পরিবেশ থাকবে না। মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই ব্যবস্থাই প্রত্যাশা তাদের।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। মব তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করার সময় শেষ। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের কাছে যেতে হবে নিজেদের অঙ্গীকার, বক্তব্য, চরিত্র ও কার্যক্রম নিয়ে। অতীত ও বর্তমান বিবেচনা করে জনগণই ঠিক করবে কাকে তারা আস্থা দেবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিরপুরে আহত জামায়াতের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, জামায়াতের কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তা দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের জানালে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা দলের মব সৃষ্টি করার কোনো এখতিয়ার নেই। এই নোংরা সংস্কৃতির আমরা নিন্দা জানাই এবং চাই এটি এখানেই শেষ হোক।
৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ওপর আস্থা রাখতে হবে। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পারে, সেই সুযোগ করে দেওয়া সব দলের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার পরিষ্কার—দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়া। সেই সমাজে আর ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে না। দলটি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—দুটি প্রক্রিয়াতেই অংশ নেবে।
বিজ্ঞাপন
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের পুরোনো কৌশলে যদি আবারও নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত করা হয়, তাহলে জাগ্রত যুবসমাজ তা মেনে নেবে না। যারা বুকের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন এনেছে, তারাই আজ সচেতন নেতৃত্ব দিচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘তোমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’ —এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কেউ মাঠে নামলে যুবসমাজ ব্যালটের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহযোগিতা করি। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির দাবি করেন, মঙ্গলবার বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, এমনকি নারী সদস্যদের ওপরও আঘাত এসেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নোংরা পরিস্থিতি আমরা আর দেখতে চাই না।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু একটি আসনে নয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কমিশন যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যারা সন্ত্রাস ও দুর্বৃত্তপনা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মসজিদের ভেতরে ঢুকে অপমান, নারীদের ওপর হামলা ও মানুষের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে, আর তা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে—তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে সম্ভব?
শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী আর কোনো সহিংসতার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। প্রত্যেকে যেন নিজের নাগরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে—এই অঙ্গীকার আমরা রাখছি।








