পঞ্চগড়ে দুই হেভিওয়েট প্রার্থী সারজিস ও নওশাদকে শোকজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পঞ্চগড়-১ আসনের দুই আলোচিত প্রার্থী সারজিস আলম ও নওশাদ জমিরকে পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান। তিনি জানান, উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দশ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় জোট প্রধানকে স্বাগত জানাতে তিনি তোরণ, বিলবোর্ড ও ব্যানার স্থাপন করেন।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত দলের প্রার্থী কেবল নিজ দলের প্রধানের ছবি বা প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন। অন্য দলের নেতার ছবি ব্যবহার করে প্রচার চালানো বিধিবহির্ভূত। এ কারণে বিষয়টি স্পষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছে।
এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনটি তোরণ নির্মাণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক আইডি দাখিল না করেই প্রচারণা চালানো—এসব অভিযোগও তার বিরুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, পৌর এলাকায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে তার সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
দশ দলীয় জোটের নির্মিত তোরণ অপসারণের সময় করতোয়া ব্রিজ এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ফেস্টুন সরাতে গেলে তার কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। অনুমোদিত মাপের চেয়ে বড় আকারের ফেস্টুন ব্যবহারের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ফেসবুক আইডি জমা না দিয়ে প্রচারণা চালানো, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুমতি ছাড়া জমায়েত এবং সরকারি গণভোটের ব্যানার ছেঁড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এসব কার্যক্রম আচরণবিধির একাধিক ধারার পরিপন্থী বলে জানিয়েছে নির্বাচন প্রশাসন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ দুই প্রার্থীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তাদের শোকজ করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।








