বিগত ১৭ বছরের তুলনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, নেই গুম-খুনের খবর

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, গত প্রায় ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বাভাবিক রয়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম, খুন, বড় ধরনের দুর্নীতি কিংবা ব্যাংক লুটের মতো ঘটনার অভিযোগ সামনে আসেনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রাজাপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গুম, খুন, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ ওঠেনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, কেউ ব্যক্তিগতভাবে অনিয়ম করলে সরকার তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার খবর তিনি শুনেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, সেই ধারাবাহিকতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য পরিহার করে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, কেবল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকলেই কোনো অঞ্চলে শিল্পায়ন সম্ভব নয়। এর জন্য যোগাযোগব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, সরকার ভোলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের বিষয়ে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকায় ভাঙনের মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প চলমান থাকলেও কাজের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
এর আগে তিনি ভোলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস, স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।








