Logo

জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতের চেষ্টা হলে জনগণ সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৩৫
জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃতের চেষ্টা হলে জনগণ সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান | ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করা বা মানুষের স্মৃতি থেকে তা মুছে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবকে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলার বা এর ইতিহাস বিকৃত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণেই এমন যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পেছনে কোনো একক ব্যক্তি বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল না। বরং দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, শিশু ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগের ফলেই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছে। তাই এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

আহত ও শহীদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবার, আহত এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করা মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি জানান, আন্দোলনের সময় তার দলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং চিকিৎসা সেবায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছেন।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকের শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর যে চিকিৎসকদের মতে তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। এসব মানুষের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক ইতিহাস রচনা করা জরুরি। আন্দোলনে কার কী অবদান ছিল, তা যেন আড়াল না হয় এবং কোনো পক্ষের ভূমিকা যেন অবমূল্যায়িত না হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ১৯৭১ সালের সব শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। একই ধরনের ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রে না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে এখন থেকেই উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, শহীদ, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নির্ভুল তালিকা রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ কেবল বেসরকারি উদ্যোগের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে এবং বিশেষ করে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগে দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে নতুন ধরনের বয়ান সামনে আনা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুলাই ঘোষণাপত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে ৫ আগস্টের মধ্যে ঘোষণাপত্র প্রকাশের কথা বলেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও অধিকার উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত টেকসই হতে পারে না।

একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের প্রতি কোনো ধরনের দমন-পীড়ন বা সহিংস আচরণ করা উচিত হবে না। যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশের পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে জামায়াতে ইসলামী সব ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে জনগণের মৌলিক অধিকার বা ন্যায্য দাবি বিসর্জন দিয়ে কোনো সমঝোতায় দলটি যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD