ভাইয়ারা, জামায়াতের হয়ে খেলতে আসিয়েন না: এনসিপিকে রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ইঙ্গিত করে কড়া রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণ কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, বর্তমান সরকারের মাত্র পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করা হলেও, যাদের উদ্দেশ করে তিনি মন্তব্য করেছেন, তারা প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখেননি।
পোস্টে তিনি মাতুয়াইলের ১৭ জন শহীদের কবরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেখানে এক শহীদের বাবা অভিযোগ করেছিলেন যে, আন্দোলনের চেতনা বিক্রি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাশেদ খাঁনের দাবি, ওই বক্তব্যের সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং মঞ্চে থাকা ব্যক্তিরা অস্বস্তিতে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও লেখেন, জনগণকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। তার মতে, যদি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জনসমর্থন সত্যিই এতটা শক্তিশালী হতো, তাহলে তারা নিজেরাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তারা সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।
এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, আগে দলটির নেতাদের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট না করার বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি নাহিদ ইসলামের একটি পুরোনো বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন। সেখানে নাহিদ ইসলাম জামায়াতের সঙ্গে জোট না করার কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খাঁন। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই অবস্থানের সঙ্গে বাস্তব কর্মকাণ্ডের অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ভাইয়ারা, জামায়াতের হয়ে খেলতে আসিয়েন না।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, জনগণ অতীতের ঘটনাগুলো ভুলে যায়নি এবং রাজনৈতিক অহংকার ও সাধারণ মানুষকে অবমূল্যায়নের ফল সংশ্লিষ্টদের ভোগ করতে হচ্ছে।
রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।









