Logo

দেশে নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত, প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:২১
দেশে নতুন বিপ্লবের ইঙ্গিত, প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমিরের
ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার কাছে মনে হচ্ছে আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন বা বিপ্লবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ কারণে তিনি দেশবাসীকে সম্ভাব্য সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১-দলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের কারণেই দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল ও জনগণ নীরব থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতির নানা দিক বিবেচনায় একটি নতুন রাজনৈতিক আন্দোলনের পূর্বাভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও অবিচারের ফল একসময় প্রকাশ পায়। তার দাবি, অতীতের ভুল ও অপকর্মের পরিণতি এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সরকার সময় থাকতে পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি না করলে তাদের পতন ঠেকানো কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জামায়াত আমির বলেন, কোনো গণআন্দোলন বয়সভেদে সীমাবদ্ধ থাকে না। যেমন জুলাইয়ের আন্দোলনে শিশু থেকে প্রবীণ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো গণআন্দোলনেও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জেল, জুলুম কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখিয়ে এ আন্দোলন থামানো যাবে না। প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও তারা প্রস্তুত বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে যারা নিপীড়নের শিকার ছিলেন, তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ এখন একই ধরনের আচরণ করছেন। তার মতে, জনগণের সঙ্গে বৈষম্যমূলক বা কর্তৃত্ববাদী আচরণ করলে জনগণও সেই আচরণের মূল্যায়ন করবে। তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জনগণের মতামত ও অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ইতিহাসে জনগণের মতামত অস্বীকারকারীদের শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াতের আমির দাবি করেন, বিভিন্ন সময় তাদের সঙ্গে আপস করার জন্য চাপ ও নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে জনগণের রায়ের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না এবং গণরায়ের সুরক্ষায় তারা অনড় থাকবেন বলে জানান।

দেশের শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবারও ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং অতীতের বিতর্কিত গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। তার দাবি, যদি মূল্য বাড়ানোর পর সংকট নিরসন সম্ভব হয়, তাহলে শুরু থেকেই সেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন নেতার বক্তব্যকে তিনি এ দাবির প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের স্থান থাকবে না।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ১১-দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD